ছাত্রী ধর্ষণের মামলা : ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন শাফাত নাঈম আশরাফ গ্রেপ্তার

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফকে গতকাল রাতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির সবাই গ্রেপ্তার হলেন।
এদিকে পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রী ধর্ষণের মামলার প্রধান অভিযুক্ত শাফাত আহমেদ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
আর শাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ গতকাল বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের আটক স্বর্ণের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হালিম ওরফে নাঈমকে গতকাল মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল। এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি শাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সোমবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন মামলার চার ও পাঁচ নম্বর আসামি শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। 
মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন। তবে গ্রেপ্তার আসামিদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দপ্তরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ মার্চ রাতে শাফাত মামলার বাদীর (ছাত্রীর) সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চেয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সাদমান সাকিফও আরেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁরা দুজনই বলেছেন, পলাতক আসামি আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ এই পুরো বিষয়টি ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্রীদের হোটেলে আনানো, হোটেল ভাড়া করা, পরিকল্পনা—সবকিছুতেই হালিম ওরফে নাঈম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তলবে গতকাল আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তাঁর দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে যান। একই দিনে রেইনট্রি হোটেল থেকে মদ উদ্ধারের বিষয়ে হোটেলটির মালিককে তলব করা হলেও তিনি অসুস্থতার কথা বলে আইনজীবী পাঠিয়ে এক মাস সময় চান। তবে তাঁদের ২২ মে সশরীরে শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে বলে আবারও নোটিশ দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪ ও ১৫ মে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ এবং ৪২৭ গ্রাম হীরা ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত করার দায়ে সাময়িকভাবে আটক করে ওই প্রতিষ্ঠানেরই (আপন জুয়েলার্স) জিম্মায় রাখা হয়। সেগুলোর বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য গতকাল তাঁদের তলব করা হয়েছিল। তাঁরা শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ১৫ দিন সময় প্রার্থনা করে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাঁরা সিলগালা করা শাখায় ও শুল্ক গোয়েন্দারা তাঁদের যেসব কাগজ জব্দ করেছেন, সেগুলোর কপি চেয়েছেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিক্রয়কেন্দ্র খুলে প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আগামী মঙ্গলবার সশরীরে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যাতীতভাবে মজুত স্বর্ণের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আপন জুয়েলার্সে যেসব সাধারণ গ্রাহক গয়না মেরামত ও বিনিময়ের (এক্সচেঞ্জ) জন্য গচ্ছিত রেখেছিলেন, তাঁদের আগামী সোমবার বেলা দুইটায় প্রয়োজনীয় রসিদসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এদিন তাঁদের গচ্ছিত গয়না ফেরত দেওয়া হবে। আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানিয়ে দেবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের মালিকের অসুস্থতার কারণে আইনজীবীর মাধ্যমে এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো চিকিৎসা সনদ দেননি। ২৩ মে তাঁদের সশরীরে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ১০ বোতল মদ উদ্ধারের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। তাঁরা উপস্থিত না হলে অভিযোগটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।
শাফাত আহমেদ রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি। গত ২৮ মার্চ রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দুই ছাত্রী জানান, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে তাঁদের নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের শিকার হন তাঁরা।

No comments

Powered by Blogger.